1. admin@alokitobangla24.com : admin :
  2. zunaid.nomani@gmail.com : Zunaid Nomani : Zunaid Nomani
রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফেনী উন্নয়ন ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক খলিলুর রহমানের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত ফ্রান্স বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফেনীর সাইফুল এসএসসি ২০০২ এবং এইচএসসি২০০৪ ব্যাচ বাংলাদেশ এর উদ্যেগে সুনামগঞ্জে বানভাষীদের ত্রাণ বিতরণ পদ্মা সেতু উদ্বোধন: ঢাকা এখন দক্ষিণাঞ্চলের হাতের মুঠোয় নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে পানিবন্দী অসহায় ৪০০ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী ও জরুরী ঔষধ দিলো আনন্দ সংঘ পুলিশ সদস্য কোরবান আলীকে চাপা দেওয়া বাস চালককে গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম বাড়ালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৩ সালে আইপিএলে ফিরছেন ডি ভিলিয়ার্স রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি জিআই স্বীকৃতি পাবে সম্রাটকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

প্রকাশ্যে ফসলি জমির ক্ষতি করে বিক্রি হচ্ছে উপরের স্তরের মাটি!

আলোকিত বাংলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০২২
  • ৪৯৯ বার পঠিত

আলোকিত বাংলা প্রতিনিধি || অবৈধ ভাবে প্রকাশ্যে ৩ ফসলি জমির মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে প্রভাবশালী মহল। চলছে ফসলী জমির মাটিকাটা উৎসব। তিন ফসলী কৃষি জমি পরিনত হচ্ছে পুকুর-ডোবায়। দিন দিন ফসলের উৎপাদন কমছে, বেকার হচ্ছে কৃষক, পরিবেশ হচ্ছে দূষিত।

মাটি পরিবহনে ভারী ট্রাক ও মাহেন্দ্র ট্রলি ব্যবহারে ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়ক হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ। আইন অমান্য করে এমনি কর্মকাণ্ড চলছে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নে ২ টা ভেকু দিয়ে এ মাটি কাটছে। অবৈধ মাহেন্দ্র চলাচলে ধুলার কুয়াশায় ডেকে গেছে গোটা এলাকা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপ্তি চাকমা বরাবর জমির মালিকগণ অবৈধ মাটি কাটা বন্ধের জন্য লিখিত অভিযোগ করে কোন ফলাফল পায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ভোলাকোট, দুধরাজপুর, পানিয়ালা, নোয়াপাড়া গ্রাম থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তায় ধুলার কুয়াশায় ডেকে গেছে। এই রাস্তায় প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার মাটির ট্রাক ও অবৈধ মাহেন্দ্র চলাচল করে। এলাকা ধুলা-বালুতে আচ্ছন্ন হয়, এতে করে যাতায়াতে নানা শ্রেণির মানুষের শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। বাড়ছে জনমনে ক্ষোভ।

এ অবস্থায় দিশেহারা ও অসহায় জীবন যাপন করছে এবং স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পরছে হাজার হাজার মানুষ। এ ধুলার কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ও শিশু অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে বেশী। প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে উপস্থিতির হার কমেছে ৪০ শতাংশ।

উপজেলা প্রশাসনিক দপ্তর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটারের মধ্যে ভোর ৫ টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রকাশ্যে অবৈধ ভাবে ফসলি জমির মাটি কাটছে দেখলে মনে হয় সরকার থেকে অনুমতি নিয়ে পুকুর খনন করছে। উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের ভোলাকোট এলাকায় ২ টি ভেকু দিয়ে মাটি মাটছে ভোলাকোট ভূঁইয়া বাড়ীর ছৈয়দ আহম্মদ এর ছেলে জাহেদুল ইসলাম জুয়েল, তার সাথে জড়িত বর্তমান মেম্বার মাঈন উদ্দিন কাজল, শামীম, নূর আলম (নূরু) এবং রাজু। ভেকুর মালিক জাহেদুল ইসলাম জুয়েল জানান বিভিন্ন জায়গায় টাকা পয়সা দিয়ে আমরা ভেকু চালাই । কোনো সংবাদকর্মী সংবাদ সংগ্রহে যেতে পারে না। ভূমিদস্যুদের নিজস্ব সন্ত্রসী বাহিনী কেউ গেলে তাদেরকে প্রতিহত করে।

টিওরী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভোলাকোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহান, রেদোয়ান ও সাদিয়া বলেন, আমরা স্কুলে আসতে পারিনা। ধূলায় আমাদের জামা কাপড় নষ্ঠ হয়ে যায়। মাহেন্দ্রার ধুলার কারণে বাড়িতে পড়তে পারিনা, ভাত খাইতে পারিনা, দিনে জানালা খুলে পড়তে পারিনা। আমরা অসুস্থ্য হয়ে পরছি।

র্দীঘদিন যাবত চলছে এ মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা জড়িত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ কিছুই দেখছে না।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগি জমির মালিকগন জানান, উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের ভোলাকোট ও টিওরী মৌজায় ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়। ভূমিদস্যুরা জমির মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে ১০/১২ ফুট গভীর করে খাড়াভাবে কাটে, যাতে করে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে পার্শ্ববতী জমির মাটি ভেঙে পড়ে যায়।

নাম প্রকাশ না করে এলাকার এক ভুক্তভোগী জানান আমার পাশের জমিতে মাটি কাটার ফলে আমার জমির পাড় ভেঙ্গে যায়। জমিতে সেচের পানি আটকে রাখা যাচ্ছেনা। তাই জমিতে ফসল ফলানো যাবেনা। বিষয়টি আমি উপজেলা প্রশাসনকে পূর্বেই অবহিত করেছি কিন্তু কোন লাভ হয়নি। আবার মাটিভর্তি ট্রাক ও ট্রলিগুলো নেয়া হচ্ছে গ্রামীন ও ইউনিয়ন সড়ক দিয়ে। ফলে রাস্তাগুলো উচু-নিচু এবং বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকা ধুলা-বালুতে আচ্ছন্ন হয়, এতে করে যাতায়াতে নানা শ্রেণির মানুষের শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের সৃষ্টি হচ্ছে।

সরকারি গেজেটে প্রকাশিত মাটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাসকরণ ২০১৩ সালের ৫৯ নং আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তত করার উদ্দেশ্যে কৃষি জমি হতে মাটি কাটা বা সংগ্রহ করে ইটের কাচাঁমাল হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কোন ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তাহলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসরের কারাদণ্ড বা ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দণ্ডেদন্ডিত হইবেন।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত বা ইউনিয়ন বা গ্রামীন সড়ক ব্যবহার করিয়া কোন ব্যক্তি ভারি যানবাহন দ্বারা ইট বা ইটের কাচাঁমাল পরিবহন করিতে পারিবেন না। যদি কোন ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তা হইলে তিনি ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। এসব আইন থাকার পরও ভূমিদস্যুরা আইনের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রশাসন চোখের সামনে এসব কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, কৃষক লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নিবো।

রামগঞ্জ থানার ওসি মোঃ এমদাদুল হক জানান, এ বিষয়ে গত ৪ এপ্রিল ২০২২ তারিখে আমার থানায় সাধারণ ডায়রী নং-১৫১ দায়ের করা হয়েছে এবং সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহনও করা হয়েছে। তারপর দিন আজ ৫ এপ্রিল ২০২২ তারিখে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে আবারও মাটি কাটা শুরু করায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ আলোকিত বাংলা ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD