1. admin@alokitobangla24.com : admin :
  2. zunaid.nomani@gmail.com : Zunaid Nomani : Zunaid Nomani
শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন

মুশফিক-লিটনের মহাকাব্য

আলোকিত বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০২২
  • ৭৮ বার পঠিত

আলোকিত বাংলা রিপোর্ট || দিনের খেলা শেষে রাসেল ডমিঙ্গোর চোখেমুখে যেন অবিশ্বাসের ছাপ। সংবাদ সম্মেলন কক্ষে ভরা মজলিশে বলেই দিলেন, তার কোচিং ক্যারিয়ারে দেখা সেরা জুটিগুলোর একটি মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের সবশেষটি। প্রধান কোচের এই এক বাক্যেই বোঝা যায় বাংলাদেশ কোথায় থেকে কোথায় এসেছে! প্রধান কোচ কেন, সবারই যে একই অবস্থা।

সোমবার (২৩ মে) ঢাকা টেস্টের দিনের শুরুটা ছিল বিপর্যয়ের। স্বাগতিক দলের স্কোরবোর্ডে তাকালে মনে হবে যেন কোনো এক ধ্বংসস্তুপ। ২৪ রানে নেই পাঁচ-পাঁচটি উইকেট! দুই ওপেনার তামিম ইকবাল-মাহমুদুল হাসান জয়ের সঙ্গে শূন্য রানে ফিরলেন সাকিব আল হাসানও। মাঝে নাজমুল হোসেন শান্ত-মুমিনুল হক আউট হলেন দুই অঙ্কের ঘর ছোঁয়ার আগেই।

এরপর শুরু হয় মুশফিক-লিটনের রূপকথার গল্প। দেশের ক্রিকেটের আঁতুড়ঘর শের-ই-বাংলায় রচিত হয় মহাকাব্য। ৫ উইকেটে ২৪ থেকে প্রথম দিন শেষে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৭৭।

রানের চাকা ঘুরতে ঘুরতে বড় হয়েছে, কিন্তু উইকেটের ঘর অপরিবর্তিতই রেখেছেন মুশফিক-লিটন। প্রথম দিন নির্ধারিত ওভার থেকে ৫ ওভার কম খেলা হয়।

ধীরে ধীরে ইনিংসে গড়ে ক্রিজে থিতু হয়ে দিন শেষ করে আসেন দুজনে। লিটন ৪৭ রানে একবার জীবন পেলেও মুশফিক কোনো সুযোগই দেননি! দিন শেষে মুশফিক ১১৫ ও লিটন ১৩৫ রানে অপরাজিত আছেন। মাঝের সময়টা যে খুব সুখকর ছিল, তা নয়। প্রতিটি বল নিয়েই হয়তো রচিত হবে ভিন্ন কোনো গল্প।

জীবন পাওয়ার পর লিটন যেন হয়ে ওঠেন নির্ভীক। টানা দুই চারে দেখা পান ফিফটির। চোখ ধাঁধানো সব শটে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিলেন। মাতোয়ারা করেছেন নান্দনিক ফুল শটে। ১৩ চারে সেঞ্চুরির দেখা পান ১৪৯ বলে। টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের সেরা ইনিংস খেলেই দিনের ইতি টানেন।

অন্যদিকে মুশফিক ছিলেন ‘খাঁটি’ টেস্ট ব্যাটসম্যান। বল ছেড়ে দিয়ে, মারার বল মেরে ধীরে ধীরে ক্রিজে থিতু হতে থাকেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। ৯ চারে ১১২ বলে ফিফটির পর যেন আরো খোলসবন্দি হয়ে পড়েন। পরের পঞ্চাশ করে সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে মেরেছিলেন মাত্র ২টি চার!

দুজনের ষষ্ঠ উইকেটে এই জুটি শুধু অবিশ্বাস্যই নয়, ভেঙেছে একটি বিরল বিশ্বরেকর্ডও। টেস্ট ইতিহাসে কোনো দল ২৫ কিংবা এর কম রানে ৫ উইকেট হারানোর পর সেরা জুটি এটি। এর আগের সেরা ছিল শতরানের নিচে, ৮৬! ১৯৫৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২২ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ৮৬ রান যোগ করেছিল পাকিস্তানের ওয়ালিস ম্যাথিয়াস ও সুজাউদ্দিন জুটি। সেটিও হয়েছিল ঢাকার মাটিতেই।

শুধু যে বিশ্বে, তা নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই ষষ্ঠ উইকেটে সবচেয়ে বড় জুটি এখন মুশফিক-লিটনের দখলে। প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির জুটি। এর আগে এতদিন সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড দখলে ছিল মুশফিক-আশরাফুলের। ২০১৪ সালে গল টেস্টে ষষ্ঠ উইকেটের জুটিতে ১৯১ রান করেছিলেন তারা।

আজও আছেন মুশফিক, তবে বদলেছে সঙ্গী। ৩৫৮ বলে ২০০ রান করেন তারা। শেষ পর্যন্ত তাদের অবিচ্ছেদ্য জুটি থেকে আসে ৪৬৯ বলে ২৫৩ রান। তাতে মুশফিকের অবদান ১০৮ আর লিটনের ১৩৫।

দিনের শুরুতে খাদের কিনারা থেকে দলকে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে থেমেছেন মুশফিক-লিটন। প্রথম দিন গেছে এক কথায় দারুণ অবিশ্বাস্য! সামনে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। ব্যাট হাতে যেভাবে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছেন তারা, তাতে ভালো কিছুর প্রত্যাশাতো করাই যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ আলোকিত বাংলা ২৪
Theme Customized BY Theme Park BD